সামিট মেঘনাঘাট–২ বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হতে পারে জুনে


 

সামিট মেঘনাঘাট–২ বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শনে সামিট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ও জেনারেল ইলেকট্রিকের দক্ষিণ এশিয়ার গ্যাস পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী দীপেশ নন্দা। গতকাল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের চর সানাউল্লায়
সংগৃহীত

বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপের সামিট মেঘনাঘাট–২ বিদ্যুৎ প্রকল্পের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে আগামী জুনে। ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে ৫৯০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার বিদ্যুৎ প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশের সামিট গ্রুপ ও যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই)।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের চর সানাউল্লায় নির্মাণাধীন সামিট মেঘনাঘাট-২ বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শনের সময় সামিট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

গতকাল প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে এ তথ্য জানান সামিট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান।

মুহাম্মদ আজিজ খান সাংবাদিকদের বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিন ৯ এইচ ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এ কেন্দ্রে জ্বালানির সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার হবে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস, ডিজেল ও হাইড্রোজেনে চলতে পারবে। কয়লাভিত্তিক ও নানা ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্রের চেয়ে এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কার্বণ নিঃসরণ অনেক কম। তিনি জানান, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম কম পড়বে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সরকার এই প্রকল্পের জন্য সময়মতো গ্যাস সরবরাহ করবে।

আজিজ খান বলেন, রাশিয়া বিশ্বের ২০ ভাগ জ্বালানি সরবরাহ করত। এখন সেই জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ইউরোপ বাকি বিশ্বের জ্বালানি নিয়ে নিচ্ছে। আগামী জুন-জুলাইয়ে যখন এই বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হবে, তখন তাদের জ্বালানি সবচেয়ে কম লাগে। ফলে এ প্রকল্প চালুর সময় বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য কমে আসবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিদর্শনের সময় ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সামিট মেঘনাঘাট–২ বিদ্যুৎ প্রকল্পটিতে জলবায়ুদূষণের মাত্রা হবে সর্বনিম্ন। এ প্রকল্পের সাফল্যে মার্কিন ব্যবসায়ীদের, বিশেষ করে জিইসহ অন্যরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে ভাববে। জিইর বিনিয়োগের সাফল্য দেখে অন্যরাও (মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান) বাংলাদেশে আসতে উৎসাহিত হতে পারে। ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের যে ভাবনা, তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য ব্যবসায়ীদের ভাবনায় কোনো পার্থক্য নেই। বিনিয়োগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ব্যবসায়ীরা স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন, দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ চান, যাতে তাঁরা বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারেন।

জিইর দক্ষিণ এশিয়ার গ্যাস পাওয়ারের সিইও দীপেশ নন্দা বলেন, এখন পর্যন্ত পুরো প্রকল্পের ৯২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পটিতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার।

করোনা সংক্রমণের সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের জ্বালানিসংকটের সময় মার্কিন সহায়তার বিষয়ে জানতে চাইলে পিটার হাস বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের পাশে থাকব। শুধু গ্যাস, কয়লা বা ডিজেলভিত্তিক গতানুগতিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে নয়, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’


বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন


Post a Comment

To be published, comments must be reviewed by the administrator *

নবীনতর পূর্বতন
Post ADS 1
Post ADS 1