বাংলাদেশ ব্যাংক চাপমুক্ত থাকুক, চায় আইএমএফ

 

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) 
ছবি: রয়টার্স

বাংলাদেশ ব্যাংক যাতে প্রকৃতপক্ষেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা পালন করতে পারে, সে ব্যাপারে কথা বলেছে সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দল। আইএমএফ চায়, অর্থ মন্ত্রণালয় তথা সরকারের চাপমুক্ত থেকে সব সময় কাজ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বাধীন দলটি গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে এমন পরামর্শ দিয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার, চার ডেপুটি গভর্নর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ মো. হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
আইএমএফের দলটি গত ২৬ অক্টোবর থেকে গতকাল পর্যন্ত প্রায় ৩০টি বৈঠক করেছে। বেশির ভাগ বৈঠকই ছিল আর্থিক খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার সঙ্গে। এই কদিনে যেসব বৈঠক হয়েছে, সেগুলোর সার-সংক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গতকালের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক জি এম আবুল কালাম আজাদ গতকাল মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, আইএমএফের দলটি ঢাকায় আসার পর থেকে যেসব বৈঠক করেছে এবং সেগুলোতে যেসব পর্যবেক্ষণ ঊঠে এসেছে, তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। এটি ছিল মূলত থ্যাংকস গিভিং (ধন্যবাদ বিনিময়) বৈঠক। তাদের প্রধান পরামর্শ জানা যাবে আগামীকাল (আজ)।
আইএমএফের দল এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভের হিসাবায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে বলেছিল। রিজার্ভের অর্থে রপ্তানিকারকদের জন্য ৭০০ কোটি টাকায় যে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, তা বাদ দিয়ে প্রকৃত হিসাব চায় আইএমএফ।

আগের বৈঠকগুলোতে ব্যাংকে সুদহারের সীমা প্রত্যাহার, মুদ্রানীতির কাঠামো পরিবর্তন, অর্থাৎ বছরে আপাতত দুইবার ও পরে চারবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করা, সঞ্চয়পত্রে সুদের হার যৌক্তিক করা, প্রবাসী আয়ে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা তুলে দেওয়া, ব্যাংকের সম্পদের প্রকৃত মান বের করা, খারাপ হয়ে যাওয়া ব্যাংকের সম্পদের তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করার পক্ষে আইএমএফ কথা বলেছে।
আইএমএফ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন ও নিরাপত্তা সঞ্চিতির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রথা অনুসরণ, খেলাপি ঋণ কমাতে কৌশল প্রণয়ন এবং সরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমাতে ও মূলধন বাড়াতে সমঝোতা চুক্তি অব্যাহত রাখার কথা বলে আসছে।
আইএমএফের দলটির সদস্যদের একাংশ আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা ছাড়বে এবং ফিরে গিয়ে ঢাকা সফরের সার্বিক দিক তুলে ধরবে সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদে। আইএমএফ পর্ষদ অনুমোদন করলে দ্রুততম সময়েই বাংলাদেশ ঋণের প্রথম কিস্তি পেতে পারে। অবশ্য তা নির্ভর করবে আইএমএফ কী কী শর্ত দেয় এবং তা বাংলাদেশ কতটুকু বাস্তবায়ন করে, তার ওপর।




বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন

  • ব্যাংক 
  • আইএমএফ 
  • বাংলাদেশ ব্যাংক

Post a Comment

To be published, comments must be reviewed by the administrator *

নবীনতর পূর্বতন
Post ADS 1
Post ADS 1